রিমোট ওয়ার্কে নেদারল্যান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব

২৫ জুন, ২০২০ ১৩:৫০  
ইতোমধ্যেই বাসা থেকে কাজে অভ্যস্থ হয়ে গেছে নেদারল্যান্ডের মানুষ। কিন্তু বাকি বিশ্বগুলো এখনো অভ্যস্থ হয়নি। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দী মানুষ, ঘর থেকে বের হতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই সময় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বাড়ি থেকে করার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। অনেকে অফিসের কাজ বাসায় করতে করতে রান্না ঘরে বহনয্যেগ্য ল্যাপটপ বা ডিভাইস নিয়ে চলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে, এই ভাইরাস কত সময়ে ধরে থাকে তা বলা যায় না। তাই আমাদের রিমোট ওয়ার্কিংয়ে অভ্যস্থ হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই তো অনেকে অস্থায়ী হোম ডেস্ক সেট-আপ সন্ধান করছে। নেদারল্যান্ডসের কয়েক হাজার শ্রমিক আশ্চর্যজনকভাবে রিমোট ওয়ার্কিংয়ে উপকৃত হয়েছেন। করোনাভাইরাসের আগে ইউকে ৪.৭ শতাংশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩.৬ শতাংশ কর্মী, নেদারল্যান্ডে ১৪.১ শতাংশ কর্মী বাসা থেকে কাজ করতো। নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী বাসা থেকে কাজের জন্য প্রথম দিকে রয়েছে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে ফিনল্যান্ড যখন অন্যান্য দেশগুলি পিছিয়ে রয়েছে। যখন করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হয়েছিল, তখন হঠাৎ আমি আমার স্ত্রী এবং আমাদের প্রতিবেশীদের জন্য রিমোট-ওয়ার্ক এর চেষ্টা করতে লাগলাম- বলেছেন আমস্টারডামের প্রকৌশলী ইভো ভ্যান ডুরন। তিনি বলেন, তখন আমি তাদের কিভাবে হোম নেটওয়ার্ক করতে হয় তা ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে শিখাচ্ছিলাম। তিনি আরো বলেন, আমি দেখললাম সারাবিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের কাজ সহজেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়। সাধারণত কম্পিউটার সরঞ্জাম থাকলেই কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করনো সম্ভব। তবে নেদারল্যান্ড এই ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। আমরা যখন লকডাউনে যাচ্ছিলাম তখন ডাচ লোকদের কিছু সুবিধা ছিল। ভ্যান ডুর ব্যাখ্যা করেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সকল কর্মীর বাসা থেকে কাজ করার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়, আরামদায়ক হোম ওয়ার্কিং সেট আপ করার জন্য প্রতিষ্ঠান একটি বাজেট সরবরাহ করে যা কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে সহায়তা করে। যেহেতু করোনা ভাইরাস একটি মহামারী ভাইরাস এইটি কবে নাগাত শেষ হবে কেউ বলতে পারে না। তাই অনেক লোক থাকবে যারা ভ্যান ডুরের স্থায়ী হোম ওয়ার্কিং সেটআপের দিকে তাকিয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক মার্কিন জরিপের ফলাফলগুলি অনুযায়ী, ৫৯ শতাংশ কর্মী ব্যবসা এবং স্কুল বন্ধের উপর নিষেধাজ্ঞাগুলি পুরোপুরি প্রত্যাহার করার পরে যতটা সম্ভব দূর থেকে কাজ চালিয়ে যেতে চাইবেন। বার্কলেস ও টুইটার বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী বাসা থেকে কাজ করছে। উভয়েই এর কর্মীদের ইঙ্গিত দিয়েছেন, মহামারী শেষ হওয়ার পরে দীর্ঘমেয়াদী হোম অফিস কাজের নীতি পরিকল্পনা করা হতে পারে। লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অখজে নওতা, গবেষণা করছেন যে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বাসা থেকে গতিশীল কাজে ব্যক্তিদের উন্নত করতে পারে, নিয়োগকর্তারা বিশ্বাস করেন অনুপ্রেরণার জন্য নেদারল্যান্ডসের দিকে মানুষ তাকাতে পারে। রিমোট-ওয়ার্ক নীতিগুলি কীভাবে কার্যকর করা যায় এবং সেট করা যায় ভার্চুয়াল অফিস। ব্যবসায়িক ভবিষ্যতবিদ এবং মনোবিজ্ঞানী বার্স গেট বলেছেন, শারীরিক অবকাঠামোগত উন্নত বিকাশ এবং বাণিজ্যিক রিমোট-ওয়ার্কিং সুবিধা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, পাবলিক লাইব্রেরিগুলি বিশাল ও আরামদায়ক আধুনিক কাজের জায়গাগুলি হিসাবে নিজেকে নতুন করে এনেছে এবং এখানে প্রচুর সংখ্যক ছোট, মানসম্পন্ন কফি শপ রয়েছে যা বাসা থেকে কাজ করা কর্মীদের জন্য পরিষেবা দেয়। নেদারল্যান্ডসে রিমোর্ট কাজের সুবিধাগুলির বিস্ফোরণটি কেবল বড় সংস্থাগুলির কর্মীদেরই উপকৃত করেনি। নেদারল্যান্ডসের প্রায় ১.১ মিলিয়ন কর্মী এই কাজে যুক্ত। ভার্চুয়াল অফিস হওয়ার ফলে ফ্রিল্যান্সার এবং ছোট ব্যবসায়ের অফিস স্থানের প্রয়োজন ছাড়াই কাজ করা সহজ হয়েছে। নেদারল্যান্ড তাদের কর্মীদের উপর বিশ্বাস রাখে অনলাইন কাজের ক্ষেত্রে। অন্যান্য দেশগুলি করোনা পরবর্তী ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার জন্য তাদের দিকে চেয়ে আছে। বিশ্ব এখনো বাসা থেকে কাজে অভ্যস্ত নয়, যুক্তরাজ্যের কর্মীদের ৮৩ শতাংশ তাদের কর্মস্থলে মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্য চাপে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িতে ব্রডব্যান্ড নেই এবং পাঁচজন কর্মীর মধ্যে একজন অফিস থেকে সময় নেওয়ার বিষয়ে নিজেকে দোষী মনে করছেন, এই ভেবে যে তারা তাদের কাজের প্রতি কম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারে। বার্স গেট বলেছেন, গত কয়েকমাস যাবত আমরা এক হয়ে কাজ করছি। আমি মনে করি যে আমরা এই সংকট থেকে ডিজিটাল মাধ্যমেই উত্তোলন পাবো। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কাজ করলে আমরা আরো স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবো। করোনাভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট ত্বরান্বিত শক্তির কারণে, অন্যান্য দেশগুলিতে কর্ম ক্ষেত্রে অশান্ত রিরাজ করছে এবং লোকেরা পুরাতন নীতি, পদ্ধতি, রীতিনীতি এবং মূল্যবোধগুলিতে পুনর্বিবেচনা করছে। যখন পরিস্থিতি এত বড় আকারে পরিবর্তন হয় তখন আমাদের কেবল শিখতে হবে এবং তা সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।